শিল্প উপদেষ্টা

এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা বিশ্ব অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি

শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) উদ্যোক্তারা দেশের এবং বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদণ্ড ও মূল চালিকাশক্তি।

শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) উদ্যোক্তারা দেশের এবং বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদণ্ড ও মূল চালিকাশক্তি। বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন এসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) একটি বড় অংশ এ খাত থেকে অর্জিত হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, পরিবর্তনশীল বাজারভিত্তিক ক্রেতা ও ভোক্তার চাহিদা পূরণ এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এ খাতকে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গতকাল ‘বিশ্ব স্বীকৃতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর দিবসটি উদযাপনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল: স্বীকৃতি—ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করা। শিল্প উপদেষ্টা বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্বীকৃতি বোর্ড (বিএবি) দেশের বিদ্যমান খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি সনদ প্রদানের মাধ্যমে ভোক্তার আস্থা তৈরিতে কাজ করছে।’

অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ স্বীকৃতি বোর্ডের মহাপরিচালক এমএ কামাল বিল্লাহ্। এছাড়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক ফাহিম বিন আসমত।

প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ফাহিম বিন আসমত বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এসএমই খাত। বিশ্বব্যাপী মোট কর্মসংস্থানের ৫০ শতাংশই এ খাত থেকে সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি ১০টি চাকরির মধ্যে সাতটি রয়েছে এসএমই খাতে। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণেও এর ভূমিকা রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জিডিপিতে এসএমই খাত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। তার মধ্যে বাংলাদেশে ৩০ শতাংশ, চীনে ৬০, শ্রীলংকায় ৫২, জাপানে ৫০, ভারতে ৩৭, নেপালে ২২ ও পাকিস্তানে ৪০ শতাংশ।’

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ কোটি ৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। জাতীয় অর্থনীতিতে বর্তমানে শিল্প খাতের অবদান ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ২০২৭ সালের মধ্যে এ অবদান ৪০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে এসএমই খাত একাই দেশের জিডিপিতে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ অবদান রাখছে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও